নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ: ক্যান্সার আক্রান্ত আফজাল হোসেন ওরফে আফজাল বিশ্বাসের একমাত্র ছেলে আসাদুজ্জামান বিশ্বাস টুনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার দুই মেয়ে রেহেনা পারভিন পপি ও মাহমুদা খাতুন লিপি। সেখানে দুই জামাই শামীমুল ইসলাম শামীম ও হামিদুল ইসলাম তোতা প্রায় ৫ লাখ টাকা চিকিৎসা ব্যয় করেছেন বলে দাবি করা হয়। অন্যদিকে, আসাদুজ্জামানের দাবি, তাদের দাবীকৃত অর্থ খরচের বিষয়টি ভিত্তিহীন ও মিথ্যা প্রচার বরঞ্চ বাবার চিকিৎসায় তিনি দীর্ঘ সময় ঢাকায় থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করেছেন। এখন গত ৩/৪ মাস থেকে বাবাকে জিম্মি করে জমি-জমা লুণ্ঠন করে নেওয়া হচ্ছে।
নথিপত্রের ভিত্তিতে জানা গেছে, ১৯ মে জমি বিক্রি, ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে ১৯৫৮ নম্বর দলিল এবং ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ২৭৯৬ নম্বর হেবা দলিল করে সংবাদ সম্মেলনকারী পক্ষটি দখল করে নিয়েছে।
অন্যদিকে, ওই প্রহসনের সংবাদ সম্মেলনে ছেলে বাবাকে পাগল সাজিয়েছে এ কথাটি বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেল, ছেলে পাগল সাজাইনি বরং মেয়েরাই পাগল সাজিয়ে বাবার সমস্ত জমি একের পর এক দখল করে নিচ্ছে। চিকিৎসকের মতামত নিয়েও যে একই ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, সেটাও ভিত্তিহীন। যা চিকিৎসকের পেশাগত লিখিত মতামত পর্যালোচনা করে প্রতিীয়মান হয়।
সরোজমিনে আরো জানা যায়, বড় চাচা রইস উদ্দিন মাস্টার ও ফুফাতো ভাই তোহুরুল ইসলাম পৃথকভাবে কিছু জমি দখল করেছেন। উল্লেখ্য, ওই পক্ষটির নিয়ন্ত্রণে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে আফজাল বিশ্বাসের প্রায় ৭০–৮০ ভাগ সম্পত্তি চলে গেছে । এখন অবশিষ্ট জমি নিয়েই মূলত টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। এই অবশিষ্ট জমিটুকু থেকেও একমাত্র পুত্র সন্তান আসাদুজ্জামান বিশ্বাসকে বঞ্চিত করার জন্যই বিভিন্ন কুটকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে সংবাদ সম্মেলনকারী ওই চক্রটি।বংশের মুরব্বি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করেও সফল হননি।
এদিকে, ২৭৯৬ /২৬ নম্বর যে দলিলটি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, এই একটি দলীলেই প্রায় পৌনে ছয় বিঘা জমি রেহেনা পারভিন পপি ও মাহমুদা খাতুন লিপি দলিল করে নিয়েছে বাবাকে জিম্মি করে। এমনকি দলিল করার সময় স্থানীয় আত্মীয়-স্বজন পাড়া প্রতিবেশী বংশ বুনিয়াদ কাউকে না পেয়ে বা কারো সহযোগিতা না পেয়ে রেহেনা পারভিন পপির দেবর আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল ইসলামকে সাক্ষী করা হয়েছে।সরেজমিন পাড়া-প্রতিবেশীর সাথে কথা বললে তারা জানায়, এই সংবাদ সম্মেলনকারী জমি দখলকারী চক্রটি কারো কথায় মানছে না। তার একমাত্র ছেলে আসাদুজ্জামান বিশ্বাস এর প্রতি অমানবিক অত্যাচার করে, তারাই আবার তাকে জমি থেকে বঞ্চিত করছে।
অত্র এলাকার জুম্মা মসজিদের ইমাম বলেন, তাদেরকে ধর্মীয়ভাবে বোঝানো হয়েছে একেবারে পঙ্খানু পঙ্খানু ভাবে এরপরও তারা ধর্মের বাণীকেও তোয়াক্কা না করে এ সকল অন্যায় কাজের সঙ্গে লিপ্ত থেকে ছেলেকে বঞ্চিত করে মেয়েদেরকে জমি লিখে দিচ্ছে।
এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের নিকট বংশ আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর দাবি, একমাত্র ছেলে আসাদুজ্জামান বিশ্বাসকে যেভাবে অন্যায় অত্যাচার ও অমানবিকতা দেখানো হচ্ছে তা নজিরবিহীন। এত কিছু করার পরেও সেই একমাত্র ছেলেকেই আবার জমি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ওই জমি দখলকারী সংবাদ সম্মেলন করে মানুষের ইমোশন নিয়ে যারা ব্ল্যাকমেইল করছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন ; যাতে এমনভাবে নিজের সন্তানকে কেউ মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হয়রানি নির্যাতন করে আবার জমি থেকে বঞ্চিত করতে না পারে।
Leave a Reply