গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনারেটিভ এআই এর ব্যবহার নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত ‎

‎মোঃ ইব্রাহীম খলিল
‎গাজীপুর প্রতিনিধি:
‎কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশে বদলে যাচ্ছে শেখার ধরন, জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের প্রচলিত ধারণা। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় শিক্ষাব্যবস্থার মূল্যায়ন পদ্ধতিকে কীভাবে আরও কার্যকর, ন্যায়সংগত ও সময়োপযোগী করা যায়—তা নিয়ে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জেনারেটিভ এআই (আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স): মূল্যায়ন পদ্ধতিতে নতুন বাস্তবতা এবং শিক্ষার্থীদের ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার।
‎আজ ১ অক্টোবর, (বৃহস্পতিবার) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন অডিটোরিয়ামে বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের আয়োজনে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাকৃবির উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ।
‎সেমিনারে কী-নোট স্পিকার হিসেবে তথ্যবহুল উপস্থাপনা তুলে ধরেন ডেনমার্কের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির অ্যাপ্লায়েড ম্যাথমেটিক্স অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্সের স্ট্যাটিস্টিকস অ্যান্ড ডেটা অ্যানালাইসিস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ সাইফুদ্দিন খালিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. ফারহানা ইয়াসমিন। সেমিনারে গাকৃবির বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীগণ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের সহযোগী পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ মামুনুর রহমান।
‎শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের পরিচালক জেনারেটিভ এআইয়ের দ্রুত বিকাশের প্রেক্ষাপটে উচ্চশিক্ষায় উদ্ভূত নতুন বাস্তবতা, শিক্ষার্থীদের শেখার ধরন এবং মূল্যায়ন পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরেন। পরে কী-নোট স্পিকার মোঃ সাইফুদ্দিন খালিদ তথ্য-উপাত্ত ও বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়ায় এর প্রভাব এবং প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থার সামনে তৈরি হওয়া নতুন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তাঁর উপস্থাপনায় জেনারেটিভ এআইকে শুধু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন হিসেবে নয়, বরং শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার পরিবর্তিত বাস্তবতার অংশ হিসেবে দেখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
‎তথ্যবহুল উপস্থাপনার পর অনুষ্ঠিত হয় প্রাণবন্ত উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার, একাডেমিক সততা, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা যাচাই এবং ভবিষ্যতের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন।
‎এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গাকৃবি উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে উন্নত দেশের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে এআইসহ সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসমূহের ব্যবহার নিশ্চিত জরুরি উল্লেখ করে বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের বিকল্প হয়ে আসেনি, বরং মানুষের চিন্তাশক্তিকে আরও বিস্তৃত করার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে এসেছে। তাই এআইকে শিক্ষার জগৎ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার পরিবর্তে আমাদের শিখতে হবে—কীভাবে এটিকে জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও সৃজনশীলতার সহায়ক শক্তিতে পরিণত করা যায়।” গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এই পরিবর্তনকে দায়িত্বশীলভাবে গ্রহণ করে ভবিষ্যৎমুখী, দক্ষতাভিত্তিক ও মানবিক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করবে বলে উপাচার্য বক্তব্যে উল্লেখ করেন।” সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সেমিনারের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *