গুণগত পরিবর্তন ও কাজের গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে সওজের হাল ধরলেন মনিরুজ্জামান: অধিদপ্তরে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য

মেরিনা রেমি: বিশেষ প্রতিবেদক
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) নতুন প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. মনিরুজ্জামান। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। তিনি সংস্থাটির সদ্যবিদায়ী প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হলেন। এর আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে মঈনুল হাসানকে পরবর্তী পদায়নের জন্য সংযুক্ত করা হয়।
সওজ ক্যাডারের ১৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান নিয়োগের আগে পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ উইংয়ের অতিরিক্ত প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী এই প্রকৌশলী ফরিদপুর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি ও সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি এবং যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সারে থেকে ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবনে তিনি রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশেষ অবদান রেখেছেন। দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণ ও সেমিনারে অংশ নিয়ে তাঁর দক্ষতা ও পেশাদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন।
এই প্রতিবেদন তৈরির আগে প্রতিবেদক নবনিযুক্ত প্রধান প্রকৌশলী জনাব মনিরুজ্জামানকে ফুলেল শুভেচছা জানান  এবং অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অভিমত জানতে চাওয়া হয়। তাঁরা জানান, মনিরুজ্জামান স্যারের প্রধান প্রকৌশলী হওয়ায় অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, মনিরুজ্জামান স্যার একজন অত্যন্ত মানবিক ও কর্মোদ্যোগী প্রকৌশলী। তিনি যেখানেই দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেই কাজের গতি বেড়েছে এবং কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে অধিদপ্তরের সকল কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে। অপর এক কর্মকর্তা বলেন, অধিদপ্তরের সবাই খুশি নতুন এই প্রধান প্রকৌশলীকে পেয়ে। তিনি সবার কথা শোনেন এবং যৌক্তিক পরামর্শকে মূল্য দেন। একজন মাঠপর্যায়ের কর্মচারী বলেন, মাঠপর্যায়ের সমস্যাগুলো তিনি ভালোভাবে বোঝেন এবং দ্রুত সমাধানে পদক্ষেপ নেন। তাঁর আমলে কাজের পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
সেবাগ্রহীতারাও নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছেন। একজন ঠিকাদার প্রতিনিধি বলেন, একজন যোগ্য প্রধান প্রকৌশলীর অধীনে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং নির্মাণকাজের মান বাড়বে বলে আশা করছেন। অপর এক সেবাগ্রহীতা বলেন, তাঁর নেতৃত্বে অধিদপ্তরের কার্যক্রমে জনবান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে এবং সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে আচরণে ভদ্রতা ও কাজে দ্রুততা আসবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, তাঁর আন্তর্জাতিক শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মঅভিজ্ঞতা দেশের সড়ক নির্মাণে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ ও মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের প্রায় ২২ হাজার কিলোমিটার সড়ক ও মহাসড়কের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সফলভাবে পালনের মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন। তাঁর নেতৃত্বে সওজ দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে প্রত্যাশা সকলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *