মবের চাপেই সন্ত্রাসবিরোধী মামলা দেয় পুলিশ : ইমি

অনলাইন ডেস্কঃ

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তারের পর জামিনে মুক্তি পাওয়া শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি অভিযোগ করেছেন মবের চাপেই তার বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য হয়েছিল পুলিশ।

৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে কারাগারে যাওয়া ইমি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করা কোনো অপরাধ হতে পারে না। যারা মুক্তিযুদ্ধকে অন্তর দিয়ে লালন করেন স্বাধীন দেশে তাদের অবশ্যই জায়গা থাকা উচিত।’

দুই মাস কারাভোগের পর আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি।

এক পর্যায়ে এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিককে আলী রিকশাসহ শেখ তাসনিম আফরোজসহ আরেকজনকে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে যান। পরে পুলিশ মোট তিনজনক আটক করে রাখে।

পরদিন ৮ মার্চ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে শাহবাগ থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।বৃহস্পতিবার কারামুক্ত হয়ে ইমি সাংবাদিকদের অভিযোগ করেন, ‘মবের চাপের মুখে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে বাধ্য হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘৭ মার্চ আমাদের পেটানো হলো। আমাদের ওপর হামলা করল।

ইমি আরো বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে চাই, আমাকে তো পুলিশ প্রথমে গ্রেপ্তার দেখাতে চায়নি। আমাকে তারা হেফাজতে রাখতে চেয়েছিল। তবে বৈষম্যবিরোধীরা, ছাত্রশিবির এবং শিবিরের আরো বিভিন্ন দোকান যখন থানাতে মব করল, তখন তারা (পুলিশ) বাধ্য হলো গ্রেপ্তার দেখাতে।’

সরকারের চেয়ে বিরোধী দল বেশি ক্ষমতাশালী হয়ে গেলে বা বেশি ক্ষমতার চর্চা করতে থাকলে দেশের নিরাপত্তার জন্য তা বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে বলেও মন্তব্য করেন ইমি। এ ধরনের মব ঠেকাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়র কঠোর হওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মুক্তিযুদ্ধকে সব ধরনের বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বান জানিয়ে ইমি বলেন, ‘বর্তমানে যে সরকার ক্ষমতায় আছে তারা ভোটের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে কথা বলেছে। মুক্তিযুদ্ধের যার যা অবদান সেটা স্বীকার করতে হবে। আমরা বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে যে রকম ওন করব, জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাকেও তো আমাদের সেভাবে ওন করতে হবে। সবার কাছে আহ্বান জানাব, যেন নিজেদের বিভাজনগুলো আমরা দূর করতে পারি। আমরা যেন আরেকটু সহিষ্ণু আচরণ করতে পারি।’

দুই মাসের কারাবাস নিজের জীবনের অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে বলেও জানান ইমি। তিনি বলেন, ‘আমি আমার পরিবারটাকে যেভাবে রেখে গিয়েছিলাম সে রকম পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারব না। এর মধ্যে আমার অনেক কিছু হারিয়ে গেছে। মাস্টার্স পরীক্ষার জন্য আমার বিয়ে পিছিয়েছিল। সেই মাস্টার্স পরীক্ষা আমি দিতে পারছি না। মেজো ভাইকে আমি আর কখনো দেখতে পাব না। কী মূল্য আমাকে দিতে হচ্ছে সেটা আমি জানি। যাদের মিথ্যা মামলায় জেলে দেওয়া হয় তারা জানে। আমি যে ছোট ভাইটাকে সে রাতে বাঁচানোর জন্য ছুটে গিয়েছিলাম সে কেমন আছে, কোথায় আছে আমি কিচ্ছু জানি না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *