জুড়ীতে বিপৎসীমার ওপরে, অন্য নদ-নদীর পানি কমছে

অনলাইন ডেস্কঃ
বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মৌলভীবাজারের নদ-নদীগুলোতে পানি বাড়লেও এখন তা কমতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে অন্যান্য নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।এদিকে, গত পাঁচ দিনের ভারি বৃষ্টি ও উজানের পানিতে মৌলভীবাজারের হাকালুকি ও কাউয়াদীঘি হাওরের বোরো ধান তলিয়ে গেছে।

তবে কৃষকদের অভিযোগ কাশিমপুর পাম্প হাউজের গাফিলতি ও সেচ পাম্পগুলো নিয়মিত সচল না রাখায় হাওরের ধান তলিয়ে গেছে।পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর তথ্য অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ১০৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে মনু নদের পানি রেলওয়ে সেতুর কাছে বিপৎসীমার ৩৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে, মৌলভীবাজার শহরের কাছে চাঁদনীঘাটে ২০৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কমলগঞ্জে ধলাই নদের রেলওয়ে সেতুর কাছে পানি সকাল ৯টায় ২৭৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
একই সময় কুশিয়ারা নদীর পানি শেরপুরে বিপৎসীমার ২৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।হাওরাঞ্চলের কৃষকরা জানান, শ্রমিক সংকট ও বৃষ্টিতে পানি বাড়লেও বজ্রপাতের ভয়ে মাঠে ধান কাটতে নামতে পারছেন না তারা। এ নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। বোরো ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন সবজি ও আউশ ধানের বীজতলাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান কৃষকরা। বিশেষ করে জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ায় বোরো ধান কাটতে পারেননি তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলেই রয়েছে প্রায় ২৭ হাজার ৩৫৫ হেক্টর। হাওরে এখন পর্যন্ত ৮৫ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে।আবহাওয়া অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে মৌলভীবাজারে ঝড়ের সঙ্গে হালকা ও ভারি বৃষ্টি হচ্ছে।
এতে জেলা শহরের খাল-নালা উপচে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। নিচু এলাকার অনেক বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও সড়কে পানি উঠেছে। অন্যদিকে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার নদ-নদী এবং হাকালুকি, কাউয়াদীঘি ও হাইল হাওরে পানি বাড়ছে।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, মৌলভীবাজার ও উজানে কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি হওয়ায় মনু, ধলাইসহ জেলার প্রধান নদ-নদীতে পানি বাড়তে শুরু করে। একই সঙ্গে জেলার হাকালুকি, কাউয়াদীঘি ও হাইল হাওরেও পানি বেড়েছে। হাওরগুলোর নিচু অংশের অনেক জমির পাকা ও আধা পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যায়। তবে কৃষকরা পাকা ধান অনেকটাই কেটে ফেলেছেন।মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, সব মিলিয়ে ৮৯৭ হেক্টর ফসল তলিয়ে গেছে। তবে তেমন একটা ক্ষতি হয়নি। হাওরে ধানাকাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে। সামান্য ধানকাটা বাকি রয়েছে। আশা করি বৃষ্টি কমলেই ধানকাটা শেষ হয়ে যাবে।জালাল উদ্দিন আরো বলেন, হাওরে আজ পানি কিছুটা বেড়েছে। এতে প্রায় সাড়ে ৩০০ হেক্টর ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। একইসঙ্গে হাওরঘেঁষা অঞ্চলে সবজিক্ষেতের মাচা তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি কমলে এগুলো ভেসে উঠবে। প্রাথমিকভাবে আউশের কিছু বীজতলা তলিয়ে গেছে। তবে এখনও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জেলার নদ-নদীতে পানি বেড়েছে। তবে একমাত্র জুড়ী নদী ছাড়া অন্য সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলীদ বলেন, ‘জেলায় এখনো কোনো বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। নদ-নদীতে পানি বাড়লেও এখন কমছে। তবে জুড়ী নদী ছাড়া মনু, ধলাই ও কুশিয়ারা নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হাওরে পানি বেড়েছে। কাউয়াদীঘি হাওরে সেচপাম্প চালু রয়েছে। এখনো বাড়িঘরে পানি ওঠার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *