খুব অল্প সময়ে অভিনয় দিয়ে মানুষের মনে দারুণ প্রভাব বিস্তারকারী অভিনেতা সালমান শাহ। এত অল্প সময়ে এমন জনপ্রিয়তা অর্জন এবং মৃত্যুর পরেও সেটা দীর্ঘদিন ধরে একই রেখায় থাকা কিংবা তার চেয়েও বেশি বেড়ে যাওয়া—এমন শিল্পী সত্যিই বিরল।
সালমান শাহ আসলে কেমন ছিলেন? তার সঙ্গে সবসময় দেখা যেত অভিনেতা তুষার খানকে। তার সঙ্গে ছিল বন্ধুতপূর্ণ সম্পর্ক।
তুষার আরো বলেন, “সালমান যেদিন মারা যায় তার আগের দিন আমি আমেরিকা থেকে দেশে ফিরি। বিকেলে আমার আর ওর ‘প্রেমপিয়াসী’ সিনেমার ডাবিংয়ের কাজ ছিল। ডাবিংয়ে যাওয়ার আগে আমি আমেরিকা থেকে আনা একটি পার্সেল আমার আত্মীয়ের বাড়িতে দিতে যাই। আমি এত ক্লান্ত অনুভব করি যে, সে আত্মীয়ের বাড়িতে পার্সেল আর শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুমিয়ে পড়ায় তারাও আমায় আর ডাকেনি।’’
মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার সময় মনে করে তুষার বলেন, ‘আমার ঘুম ভাঙে রাত পৌনে ১১টায়। সেদিন আর ডাবিংয়ে যাইনি। পরদিন সকাল বেলা পরিচালক চাষী নজরুল ইসলামের মেয়ে আন্নি আমাকে ফোন দিয়ে জানায়, সালমান সুইসাইড করেছে। আমি তখন বিষয়টা মেনে নিতেই পারিনি। আন্নিকে আমি আবার বলি, ওকি মারা গেছে। আন্নি জানায়, হ্যাঁ, এখন মেডিক্যালে। আমি সঙ্গে সঙ্গে সেখানে চলে যাই।’
এরপরই আফসোস করে তুষার বলেন, ‘হাসপাতালে পরিচালক রেজা হাসমত আমাকে দেখে বলেন, কালকে আপনি কই ছিলেন? আমি বললাম কেন? তখন রেজা জানান, গতকাল ডাবিংয়ের সময় সালমান খুব আপসেট ছিল। আপনাকে অনেক খুঁজেছে। ফোন করেছে। ফোনে না পেয়ে আপনার বাসায় লোক পাঠিয়েছে।’
আফসোস করে এই অভিনেতা বলেন, ‘এমন কথা শোনার পর আমার প্রায়ই মনে হয়, ও হয়তো অন্যদিনের মতো আমার কাছে কিছু কথা শেয়ার করতে চেয়েছিল। হয়তো আমার সঙ্গে কথা বলার পর ওর মনটা আবার ফ্রেশ হয়ে যেত। এমন দুর্ঘটনা হয়তো ঘটত না। আমার এখন মনে হয়, আমি ওইদিন কেন আত্মীয়ের বাসায় ঘুমিয়ে পড়লাম! এই কষ্টটা আমার সারাজীবন থাকবে। হয়তো আমি সেদিন না ঘুমিয়ে পড়লে আজও আমাদের মাঝে সালমান শাহ থাকতো। এত দর্শকের মন ভেঙে যেত না!’










Leave a Reply