লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদের ২০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সাহিত্য উৎসব অনুষ্ঠিত

আখতার হোসাইন খান
বিশেষ প্রতিনিধি
বাংলা একাডেমি মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেছেন, ৭ই মার্চের ভাষন শুধু রাজনীতি নয়, একটি উন্নত সাহিত্য। ৪৭ এর পতাকা ছিল দু:খ ও দু:সহ শোষণ ও নির্যাতনের। ভাষা আন্দোলন রাজনীতি ও সাহিত্য সংস্কৃতির এক পরিবর্তন সুচিত করে। ৬৯ এ সাহিত্যের নব বিপ্লব ঘটেছে। ৭০এর নির্বাচন ও ৭১এর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এসেছে এদেশের স্বাধীনতা। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তরুণদের মেরুদন্ড সোজা হলে বাংলাদেশ সোজা হবে, সাহিত্য সোজা হবে। তিনি গত মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদ এর ২০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সাহিত্র উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
 অনুষ্ঠানে লক্ষ্মীপুর জেলা সহিত্য সংসধ পুরস্কার পেয়েছেন টাঙ্গাইল সাহিত্য সংসধের সাধারণ সম্পাদক ৭০ দশকের বিশিষ্ট কবি মাহমুদ কামাল। বাংলা আওয়াজ লেখক সম্মাননা ২০১৯ পেয়েছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব লেখক ইয়াসমিন সুলতানা ও বিশিষ্ট ছড়াকার-তুষারধারা সম্পাদক কবি আমিনুল ইসলাম মামুন। লক্ষ্মীপুর জেলা সহিত্য সংসধ বিশেষ সম্মাননা ২০১৯ পেয়েছেন বিশিষ্ট লেখক জাহিদুল গনি চৌধুরী। জেলার বর্ষসেরা কবি সম্মাননা ২০১৯ পেয়েছেন কবি মো: আবদুল মোতালেব ও কবি হোসেন আহমদ জান।
  সাহিত্য সংসদের সভাপতি ডা. মোঃ সালাহউদ্দিন শরীফের সভাপতিত্বে এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন কবি সৈয়দ আল ফারুক। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক বাংলা আওয়াজ সম্পাদক গাজী গিয়াস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক এডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ অধ্যাপক খলিলুর রহমান চৌধুরী, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়াম্যান এ.কে.এম সালাহ উদ্দিন টিপু। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা করেন জেলা পরিসদের প্যানেল চেয়াম্যান ফরিদা ইয়াসমিন লিকা, কবি খাতুনে জান্নাত, কবি হোসাইন ইফতেখার, জাকির হোসেন ভূঁইয়া আজাদ, কবি মাহফুজ মুজাহিদ, সাইফুল ইসলাম তপন, কবি আমির হোসেন মোল্লা ও মাহাবুবুর রশীদ চৌধুরী।
 অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ ও সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। শিক্ষার্থীদের সাহিত্য কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। তাছাড়া সরচিত কবিতা পাঠ ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন সাহিত্য সংসধের সহ-সভাপতি মোশাররফ হোসেন চৌধুরী ও সাহিত্য সংসধের সাংস্কৃতিক ও পাঠচত্র সম্পাদক  ফাহামিদা মাহবুব রূপা। সঙ্গীত পরিবেশন করেন ফাহামিদা মাহবুব রূপা ও এন্টিমনি মজুমদার। তবলায় ছিলেন মাধব চন্দ্র মজুমদার।
 অনুষ্ঠানে বক্তাগন বলেন, সাহিত্য সংসধ সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। অতিথের অনেক সংগঠন লক্ষ্মীপুরে বিলুপ্ত হলেও সাহিত্য সংসধ ২০ বছর জাবত কাজ করে যাচ্ছে। তারা সাহিত্য সংসধের সমৃদ্ধি কামনা করেন। লেখক ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, আমার বাবা সাংবাদিক সানাউল্লাহ নূরী ছিলেন আলোকিত মানুষ ও লেখক। প্রচুর বই না পড়লে আমরা পিছিয়ে থাকব। বই আমাদের আলোকিত করবে। দেশের ইতিহাস, সাহিত্য – সংস্কৃতি সব জানতে হবে।
ছড়িয়ে দিনঃ