মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে বাজে মন্তব্যকারীদের উদ্দেশ্যে আমার কিছু কথাঃআরিফ রহমান শিবলী

রাকিবুল ইসলামঃ

দক্ষিন এশিয়ার প্রথম ক্ষুদে গণমাধ্যম সংস্থার প্রধান নির্বাহী আরিফ রহমান শিবলী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে একটি স্ট্যাটাস শেয়ার করেন স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি কে নিয়ে যারা বাজে মন্তব্য ছুঁড়েছিলেন তারা কি অন্তত তাঁর এই কথাগুলো নিয়ে ভেবেছিলেন? যা আমি নিচে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। যদি ভেবে না থাকেন এইবার ভাবুন !

মহামান্য রাষ্ট্রপতি ঢাবি সমাবর্তনে সেদিন ভাষণ দিয়েছিলেন ৪০ মিনিট যা নিয়ে আপনারা ট্রল বানিয়ে তামাশা করেছেন সেই প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে নিয়ে কথা বলেছেন মাত্র ১ মিনিট এর চেয়ে কম সময় ।

এখন যারা টেলিভিশনে টকশো করেন তাদের মাঝে আমি দেখি শুধু স্যার বেনজির আহমেদ ( র‌্যাব মহাপরিচালক ) অন্তত তিনি যে চ্যানেলে ই যান আমার কাছে ফোন আসে ! আমি শত ব্যাস্ততার মাঝেও মুগ্ধ হয়ে দেখি । র‌্যাব মহাপরিচালক ছাড়া দেখি দুজনের টকশো মাত্র। আর সবচেয়ে বেশী ভালো লাগে আমার সহজ সরল আব্দুল হামিদ নামক মানুষটার বক্তব্য যিনি আমার দেশের রাষ্ট্রপতি বলে আমি গর্বিত । কারন তিনি অনেক কিছু শিখান তার সরল কথা দিয়ে ।
যদিও নতুন প্রজন্মের কিছু অকর্মার ঢেঁকিসহ সুশীল সমাজ নামক কিছু বুদ্ধি বিক্রেতা না বুঝেই কি করে দেশের রাষ্ট্রপতি কে অসম্মান করে ফেসবুকে লিখেন তা আমার বুঝে আসে না ।
ঢাবির সেই অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেনঃ
১. চাকরীর জন্য শিক্ষাগ্রহণ না করে অন্যকে শিক্ষা দেয়ার মানষিকতা তৈরি করে মানবিক শিক্ষা নিয়ে সুস্থ ও মেধাবিত্তিক সমাজ গঠনের ।

২. ৬০ এর দশকের ছাত্র রাজনীতি ও বর্তমান ছাত্র রাজনীতির ফারাক কেন সে বিষয়ে ছাত্রদের ভাবতে বলেন, সেখান থেকে সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক দেশ ও সমাজ গঠন করার জন্য যে প্রত্যয় নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে সেটা আজো বাস্তবায়ন হয়নি, কেন হয়নি এ বিষয়ে ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত সমাজ গঠনে নবীন গ্রাজুয়েটদের দায়িত্ব নেয়ার কথাও বলেন।

৩. ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারীর অস্ত্রসমর্পন অনুষ্ঠানে জাতির জনকের উদ্বৃতি করে বলেন “ মুক্তি সংগ্রামের চেয়েও দেশ গড়ার সংগ্রাম কঠিন” ছ্ত্রাদের দেশ গড়ার আহবান জানান । দেশের রাজনীতির দুর্বিত্তায়নের সমালোচনা করে সকল দলকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে বলেন । যাতে ইচ্ছা করলেই একজন আমলা শেষ বয়সে এসে উড়ে এসে জুড়ে বসে খবরদারী করতে না পারে , যারা আজীবন নিজেকে স্যার শব্দ শুনতে অভ্যস্ত তারা জনগনের কাছে এসেও “স্যার” শুনতে না পারলে ভাল না লাগার বিষয়ে খুব খোলামেলা ভাবেই উপস্থিত ঢাবি ভিসিকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন ।

৪. ডাকসুর নির্বাচনের বিষয়ে কথা বলেন, সারা দেশের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনের বিষয়ে বলেন , তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ঢাবির ছাত্রদের দায়িত্ব নিতে বলেন ।

৫. এখনকার ছাত্রদের সাহিত্যের বই পড়ার অভ্যাস তলানীতে ঠেকার উদাহরণ দিতে গিয়ে প্রেম পত্র লেখার কথা বলেন । তার এই কথাটা নিয়েও এত সমালোচনা হয়েছে দেখে আমি হতবাক হয়ে গেছি! যারা নিন্দার ঝড় তুলেছে তারা কি কেউ জীবনে প্রেম করেনি ?

৬. এরপর পরই রাষ্ট্রপতি দুটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন মোবাইলের ভয়াবহতা নিয়ে, যা দেশের সকল মানুষদের ভাইরাল করার কথা ছিল কিন্তু সেটা হয়নি । কারন! আমরা ভালোকিছু ভাইরাল করি না এমনকি শিখিনি বললেও চলে।

৭. বাচ্চাদের খাওয়াতে গিয়ে মোবাইল সামনে দিয়ে গেম বা গান ধরিয়ে দেয়া । এ কথা বলতে গিয়ে বাচ্চাদের কাঁদার উপকারিতা বলেন কাঁদতে দিতে হবে কাঁদলে ফুসফুস হার্ট এবং মস্তিষ্কর ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার কথা বলেন । বলুন আর কি শিখতে চান দেশের রাষ্ট্রপতির কাছে ?
যিনি ৭ বার জাতীয় সংসদে কথা বলে গেছেন পরপর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে! এমনকি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন তিনি কি আপনার আমার থেকে কি বক্তব্য দিতে হবে তা শিখতে হবে ?

মজা করার নামে দেশ সেরা সূর্য সন্তানদের নিয়ে ভাইরাল করার আগে নিজের পজিশন নিয়ে ভেবেছেন কি ?

৮. গাড়িতে উঠলে পাশাপাশি ছিটে বসে যে যার মত মোবাইল টেপা আর হেডফোন একটা কানে দিয়ে দুনিয়া থেকে নিজেকে আলাদা করার ভয়াবহতা নিয়েও কথা বলেছিলেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি । তিনি বলেন তার তরুন বয়সে বাসে পাশাপাশি বসলে অপরিচিত হলেও পরষ্পরের খোজ নিতেন পরিচয় হতেন, এতে হৃদ্ধতা ভালবাসা বাড়ার উপকারিতা বিষয়ে কথা বলেছিলেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি । তাও ভাইরাল করলেন না । সত্যিই লজ্জা আপনাদের পাওয়া উচিৎ ।

শুনুন! সম্মান দিতে না পারেন অন্তত ট্রলের নামে অতিরিক্ত অতিরঞ্জিত কিছু না ছড়ানোই বুদ্ধিমত্তার কাজ ।

ছড়িয়ে দিনঃ