বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী সুমন লড়ছেন কুমিল্লা-৯ আসনে

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনে লড়ছেন ৮৫ জন প্রার্থী। ১১টি আসনের এসব প্রার্থীদের মধ্যে এবার সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী হিসেবে হারিকেন প্রতীক নিয়ে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের ভোটের মাঠে রয়েছেন অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আবদুল আউয়াল সুমন। জেলার সর্বকনিষ্ঠ এই এমপি প্রার্থীর জন্ম ১৯৯২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর। সেই হিসেবে নির্বাচনের দিন অর্থাৎ ৩০ ডিসেম্বর তাঁর বয়স হবে বয়স ২৬ বছর ৩ মাস ৩ দিন।

জানা গেছে, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবদুল আউয়াল সুমন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। তবে তাঁর দল এনডিএম নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়নি। এজন্য এনডিএম এবারের সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সঙ্গে একীভূত হয়ে গণঐক্য নামে একটি জোট করেছে। মুসলিম লীগের নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন রয়েছে এবং দলটির প্রতীক হারিকেন। যার ফলে গণঐক্য তথা মুসলিম লীগের প্রতীক হারিকেন নিয়েই কুমিল্লা-৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আবদুল আউয়াল সুমন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা জজ কোর্ট ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ আবদুল আউয়াল সুমনের বাড়ি জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার মৈশাতুয়া ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের ছেলে। সুমন একজন কোরআন হাফেজ। ২০০৩ সালে কোরআন হাফেজ প্রতিযোগীতায় সমগ্র বাংলাদেশে প্রথমস্থান অধিকারী হন তিনি। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ-বির এর গবেষক এবং কার্যকরী কমিটির নির্বাচিত সদস্য।

সুমন কিছুদিন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষককতাও করেছেন। তিনি স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সংগঠক এবং প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে কর্মশালার মাধ্যমে লাকসাম নবাব ফয়জুন্নেসা সরকারি কলেজ, নুরুল আমিন মজুমদার ডিগ্রী কলেজ, লাকসাম মডেল কলেজ, নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রী কলেজ, মনোহরগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজ, শাহ শরীফ ডিগ্রী কলেজসহ প্রায় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্তত অর্ধ লক্ষ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে ক্যারিয়ার গঠন বিষষক প্রশিক্ষণ দিয়ে বেশ প্রশংসা কুঁড়িয়েছেন তিনি।

এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সহযোগীতায় ইমাম, মোয়াজ্জিন, কাজী, মহিলা, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে বাল্যবিবাহ বিরোধী সচেতনতা ও আইনি সচেতনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কর্মশালা করেছেন তিনি। বিভিন্ন কলেজের শিক্ষর্থীদের নিয়ে খুদে সাংবাদিক কর্মশালা, আলেম-ওলামা সম্মেলন ও সেঞ্চুরিয়ান টিম (১ হাজার সদস্যের) গঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনামূল্যে রক্তদান, বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, বৃক্ষ রোপন, শীত বস্ত্র বিতরণ, স্বাস্থ ক্যাম্প, শিক্ষা সহায়তাসহ নানা রকম সমাজসেবামূলক কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

রোববার বিকেলে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় এবারের নির্বাচনে অংশ নেয়া কুমিল্লা জেলার সর্বকনিষ্ঠ এমপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আবদুল আউয়াল সুমনের। এ সময় আসন্ন নির্বাচনে ভোটরদের কাছে তাঁর প্রতিশ্রুতি কি জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করি। আর এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার মূল কারণ হলো- এমপি পদে নির্বাচিত হতে পারলে সেই কাজটি আরো বেশি করার সুযোগ রয়েছে।

জনগণ যদি তাঁদের কল্যাণের জন্য আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে তাহলে আমি সর্বপ্রথম লাকসাম-মনোহরগঞ্জের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিতে তথা বিষয়গুলো সার্বিক পর্যবেক্ষণ, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা করতে লাকসাম-মনোহরগঞ্জের স্বাধীনতা পরবর্তী এই সময় পর্যন্ত নির্বাচিত সকল জনপ্রতিনিধি (এমপি থেকে ইউপি মেম্বার পর্যন্ত) এবং উভয় উপজেলার বিভিন্ন পেশার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ‘লাকসাম-মনোহরগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠন করবো।

এরপর লাকসাম-মনোহরগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এর সার্বিক সহায়তা ও পরিচালনায় সরকারি-বেসরকারি অনুদান, দেশ-বিদেশি ব্যক্তি বা দাতা সংস্থার অনুদান ও যাকাতসহ অনান্য বৈধ উৎস হতে গৃহীত অর্থের মাধ্যমে শিক্ষা তহবিল, স্বাস্থ্য তহবিল, উন্নয়ন তহবিল, সহায়তা তহবিল, কর্মসংস্থান তহবিল ও ইসলামী তহবিল গঠন করে এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

আবদুল আউয়াল সুমন আরো বলেন, লাকসাম-মনোহরগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আগামী ৫ বছরে এলাকার লাখো কৃষক ও সকলের প্রাণের দাবি ডাকাতিয়া নদী ও সংশ্লিষ্ট খালগুলো খনন, কমপক্ষে ২৫ বছর মেয়াদী রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংরক্ষণ, ১টি বিশ^বিদ্যালয় (নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানীর নামে), দুটি উপজেলায় ২টি গার্লস কলেজ, ৪টি গার্লস স্কুল, ২টি পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট, ২টি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র, মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্য ১টি জাদুঘর, ১টি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১টি নার্সিং কলেজ, ১টি ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল জোন, অনলাইনে সারাবিশ্বে সহজে লেনদেন করার জন্য ১টি বিট কয়েন মাইনিং স্টেশন, লাকসাম-মনোহরগঞ্জের জনগণের শতভাগ মালিকানায় ১টি কমিউনিটি ব্যাংক, ১টি কমিউনিটি টিভি চ্যানেল, ১টি কমিউনিটি রেডিও, আধুনিক সুবিধা সম্বলিত ২টি জার্নালিষ্ট কমপ্লেক্স তৈরিসহ বৃহত্তর লাকসামকে জেলা বা সিটি কর্পোরেশন গঠনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরো বলেন, লাকসাম-মনোহরগঞ্জের সকল মানুষের জন্য বাংলাদেশের ৬৪ জেলার যেকোন আদালত ও উচ্চ আদালতে আইনি সহায়তার ব্যবস্থা, সকল প্রবাসী ভাই-বোনদের বিদেশে যেকোন অ্যাম্বাসীতে আইনি সহায়তার ব্যবস্থা, সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিতে দলমত নির্বিশেষে সমাজের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে সমাজ কমিটি গঠন করা হবে। সকলের জন্য নিরাপদ, রাজনৈতিক মামলা-হামলা ও হয়রানীবিহীন, সমৃদ্ধশীল, শান্তিময় লাকসাম-মনোহরগঞ্জ গঠন করা হবে, ইনশাআল্লাহ। এছাড়াও এলাকার উন্নয়নে নানান প্রতিশ্রুতির কথা ব্যক্ত করেন তিনি।