ড. মূসা বিন শমশের বাংলাদেশের একমাত্র ট্রিলিয়নিয়ার

দৈনিক যুগান্তরে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী মোস্তফা কামাল ড. মূসা বিন শমশেরেরকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ড. মূসার এই বিপুল অর্থের মাধ্যমে বাংলাদেশ উপকৃত হবে। অর্থমস্ত্রী আরো বলেন, ড. মূসা বিন শমশেরের অর্থ এক কথায় অঢেল।

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই প্রথম বারের মত বিপুল পরিমাণ টাকা জমা নেয়ার জন্য ভল্ট সুসজ্জিতকরণের কাজে ব্যস্ত রয়েছে। ইতিহাস সৃষ্টিকারী বিপুল অংকের টাকা গ্রহণে স্থান সংকলনের জন্য দিন রাত তারা কাজ করার পরিকল্পনা গ্রহন করেছে। ইতিহাস সৃষ্টিকারী এ কারনে যে, কোন একক ব্যক্তির এত বিপুল পরিমান টাকা জমা করার ঘটনা অতীতে আর কখনো ঘটেনি। এই অর্থের পরিমান ৩২ বিলিয়ন ইউরো। বাংলাদেশী মুদ্রার হিসাবে তিন ট্রিলিয়ন টাকারও বেশী। অপরদিকে ড. মূসার ১২ বিলিয়ন ডলার ২০০৮ সাল থেকে সুইস ব্যাংকে জব্দ রয়েছে।

বিতর্কিত অস্ত্র ব্যবসায়ী এবং বাংলাদেশের ধনকুবের ড. মূসা বিন শমশের এই অর্থের একক মালিক। ড. মূসা চলতি মাসে বংলাদেশে সরকারকে বিদেশ থেকে এই অর্থ আনার অনুমতি চেয়ে তা গুলশানের সিলোন ব্যাংকে জমা দানের আবেদন করেছেন।

২০১৭ সালে এই অর্থের পরিমান ছিল ২০ বিলিয়ন ইউরো কিন্তু সংগত কারনে বর্তমানে এর পরিমান অনেক বেশী। দীর্ঘ দিনে এই অর্থের সঞ্চিতি ঘটেছে। ড. মূসার সাথে বিখ্যাত অস্ত্র ব্যবসায়ী এবং দীর্ঘদিনের বন্ধু আদনান খাসোগীর সঙ্গে অংশীদায়ত্বের ব্যবসা ছিলো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে অস্ত্র ব্যবসা করে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছেন।

আদনান খাসোগীর ব্যবসায়ীক সাফল্যের অনেক তথ্য সাধারন মানুষের নজরে আসে ২০১৭ সালে তার মৃত্যুর পরে। একটি ব্যাংকের ভল্টে তার মূল্যবান বেশ কিছু দলিল রক্ষিত ছিল।

দৈনিক যুগান্তরে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী মোস্তফা কামাল ড. মূসা বিন শমশেরের সৌভাগ্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিশ্চয়ই এই বিপুল সম্পদের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রভূত উপকৃত হবে। তবে বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে এই অর্থের ব্যাপারে তার কিছুটা রিজার্ভেশন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অর্থমস্ত্রী মোস্তফা কামাল বলেন, ড. মূসা বিন শমশেরের অর্থ এক কথায় অঢেল। হঠাৎ করে এই অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ঢুকে পড়লে মুদ্রাস্ফীতি ঘটতে বাধ্য। অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবও পড়তে পারে। অর্থমন্ত্রী বলেন, এই ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি প্রয়োজন। এদিকে অর্থমন্ত্রী মোস্তফা কামাল দ্যা ডেইলি সান পত্রিকায় প্রদত্ত সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সুইস ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ড. মূসা বিন শমশেরের যে এক ট্রিলিয়ন টাকা জব্দ করেছে তা নির্বিঘ্নে ফিরিয়ে আনতে পদক্ষেপ নেবেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ঐ অর্থ ফিরিয়ে আনতে পারলে বাংলাদেশ ব্যাপক ভাবে উপকৃত হবে।

ট্রান্সফারেন্সী ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশ (টিআইবি) ঐ অর্থ ফিরিয়ে আনাকে জাতির জন্য ইতিবাচক বলে মনে করে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেকারুজ্জামান দৈনিক যুগান্তরকে বলেছেন, ড. মূসা বিন শমশেরের ঐ অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে আমি ইতিবাচক হিসাবে দেখতে চাই। এই পথে বাংলাদেশ উপকৃত হবে।

এদিকে ড.মূসা তার বিদেশের অর্থ যাতে নির্বিঘ্নে দেশে আনতে পারে সে লক্ষে বাংলাদেশের সরকারের কাছে অনুমতি চেয়েছেন। এই টাকা গ্রহণ করার পরে জাতির কল্যাণে কি কর্মসূচি নেওয়া যায় তা চুড়ান্ত করতে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে। টাকা পাওয়ার সাথে সাথে একশত কোটি টাকা পাবনার মানসিক প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্যয় করবেন। ড. মূসা বলেন, মানবতা সেটাই যারা নিজেদের কোন ভাবেই সাহায্য সহযোগিতা করতে পারে না তাদের জন্য এগিয়ে আসা। ড. মূসা বাংলাদেশের প্রথম মিলিয়নিয়ার, পরে প্রথম বিলিওনিয়ার এখন তিনি বাংলাদেশের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে দ্রুত এগিয়ে চলেছেন।

ছড়িয়ে দিনঃ