ড. মূসা বিন শমশেরকে হত্যার পরিকল্পনা মোসাদ ও আইএসআই এর চক্রান্ত ফাঁস।

৮০ দশকে ইসরাইল সরকার ভঙ্ককর ও মারাত্মক মরনাস্ত্র মিসাইল নিক্ষেপ করে মক্কা, মদিনা, ও জেদ্দা ধ্বংসের পরিকল্পনা করেছিলো। মুসলিম জাহানের পবিত্র স্থান ধ্বংস হয়ে গেলে ইসলাম ধর্ম হয়তো বিলিন হয়ে যেত। সেই মহা ধ্বংসযজ্ঞ থেকে পবিত্র মক্কা, মদিনা ও জেদ্দাকে রক্ষা করেছিলেন বিশ্ব বরেণ্য অস্ত্র ব্যবসায়ী ড. মূসা বিন শমশের। তিনি ইসরাইলের ভয়ঙ্কর পরিকল্পনাটি নস্যাৎ এর পর সারা বিশ্বে ইসরাইলকে কোনঠাসা করে রাখতে সক্ষম হন। সেই ভয়ঙ্কর পরিকল্পনাটির খবর হয়তো বিশ্ববাসী জানতোনা তবে সৌদি বাদশা ফাহাদ, ক্রাউন প্রিন্স সুলতান, সাদ্দাম হোসেন, হাফেজ আল আসাদ এবং ইয়াসির আরাফাত জানতেন। এছাড়া বেশ কয়েকবার মোসাদ পাকিস্তানের আইএসআই যৌথ ভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পরিবারের সদস্য ও আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের হত্যার পরিকল্পনা করে। ড. মূসা বিন শমশের সমস্ত পরিকল্পনা সফল ভাবে ভুন্ডুল করে দেয়। তাই ড. মূসা বিন শমশেরকে ইহুদি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই মিলে হত্যার পরিকল্পনা করে।

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও ধুরন্ধর গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের পরিচালক ইয়োসেফ ইয়োশি মেইর কোহেন ২০১৮ সালের ০৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান লে. জেনারেল নাভিদ মুক্তারকে অত্যন্ত গোপনীয় একটি চিঠি দেন। ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ প্রধান ইয়োশি কোহেনের চিঠিতে বাংলাদেশের ধনকুবের ও আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসায়ী ড. মূসা বিন শমশেরকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশনা ছিলো। অত্যন্ত গোপনীয় অভিধায় চিহ্নিত সেই চিঠিতে আইএসআই প্রধানকে ইয়োশি কোহেন ডিয়ার চীফ বলে উল্লেখ করেন। সেই চিঠির বাংলা অনুবাদ হলোঃ

০৭ সেপ্টম্বর ২০১৮
ডিয়ার চীফ,
মহাবিপর্যয়ের যে সর্বশেষ খবর ও তথ্য আপনি আমাকে জানিয়েছেন, এজন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আমি আপনার যন্ত্রণা ও কষ্ট সমান ভাবেই অনুভব করছি। জাহাজটি ধ্বংস হয়ে যাওয়া এবং জাহাজের মূল্যবান জিনিসপত্র বিনষ্ট হওয়া এক বিশাল ক্ষতি (প্রধানমস্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের উপর প্রাণঘাতী আক্রমন চালানের জন্য উল্লেখিত জাহাজে শক্তিশালী বিষ্ফোরক ও মারনাস্ত্র বোঝাই করে বাংলাদেশে অভিমুখে পাঠানোর চক্রান্ত প্রতিহত করা হয়)। সোমালীও জলদস্যুদের সংগঠিত করে জাহাজটি ডুবিয়ে দেয়া হলে হাজার কোটি ডলারের অস্ত্রশস্ত্র সমুদ্রে জলমগ্ন হয়। আমি আপনার সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত যে, ড. মূসা বিন শমশের (ডিএমবিএস) একজন ভয়ঙ্কর প্রকৃতির মানুষ এবং যেকোন মূল্যে তাকে দুনিয়া থেকে অপসারিত করতে হবে। তিনি যুগ যুগ ধরে আমাদের জন্য মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাড়িয়েছেন। তিনি আমাদের ইসরাইলি জাতিসত্তার জন্যও চরম হুমকি এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তিনি নানাভাবে আমাদের নাস্তানাবুদ করে চলেছেন।

আমি আমাদের মধ্যকার বৈঠকে বাংলাদেশী এই জারজ সন্তানের (বাস্টার্ড) কথা আগেও উল্লেখ করেছি এবং ইসরাইল সরকারের এক নম্বর জাতশত্রু হিসাবে আমারা ডিএমবিএসকে চিহ্নিত করেছি।

আমাদের বিরুদ্ধবাদী বহু দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের নেপথ্যে ড. মূসা বিন শমশের। আমাদের মার্কিন বন্ধুরা ড. মূসার তৎপরতা কখনই মানতে চায়নি এবং এই ধারনার প্রবল বিরোধিতা করে আমাদের অসংখ্যবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো ডিএমবিএস কখনই সফল হবেন না। কিন্তু তারা সব ক্ষেত্রেই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এবং তার পরিকল্পনা রদ করতে পারেনি।

১৯৮০র দশকে ইসরাইল থেকে ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে কাবাশরীফ, মদীনা এবং জেদ্দার মসজিদসমূহ ধ্বংসের পরিকল্পনা করে আমরা তাদের দেশকে অস্থিতিশিল করার কার্যক্রম গ্রহন করেছিলাম। মুসলিম দেশ সমূহকে আমরা এই বার্তাও দিতে উদ্যোগ নিয়েছিলাম যে, সাবধান আমাদের বিরুদ্ধে গেলে এর চেয়েও ভয়ঙ্কর পরিনতি ঘটবে।

ইসরাইলের শীর্ষ পর্যায় থেকে আমাদের এই পরিকল্পনা অনুমোদিত হলে সে লক্ষ্যে আমরা অভিযানটি নানা অভিধায় নিশ্চিদ্র করি। চারদেয়ালের ঘেরাটোপে আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা এমন ভাবে প্রস্তুত করি যাতে ব্যর্থতার লেশমাত্র সুযোগতো ছিলোইনা এবং সাফল্যের হার ছিলো একশ শতাংশ। ঐ পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর আমারা উৎঘাটনে সমর্থ হই যে মোসাদের ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার দুজন কর্মকর্তা ডিএমবিএস এর হয়ে কাজ করেছে। এই দু’জনার একজন সৌদি আরবের প্রসিদ্ধ মসজিদগুলো ধ্বংশের নেতৃত্বে ছিলো। পরবর্তীতে উৎঘাটিত হয়েছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে ডিএমবিএস এর পে-রোলে ছিলো এবং আমাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পরেও বহু বছর ধরে তাদের পরিবার ডিএমবিএস এর আর্থিক আনুকূল্য পেয়েছে। মোসাদের সদস্য হিসাবে প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানি এবং মসজিদ ধ্বংশের পরিকল্পনা ব্যর্থ করতে যারা ক্ষেপনাস্ত্র নিষ্কিৃয় করেছিলো সবোর্পরি উক্ত পরিকল্পনা ডিএমবিএস এর হয়ে নস্যাৎ করেছিলো, আমারা তাদের ফাঁসি দিয়েছিলাম।

আমি আপনার সংঙ্গে একমত যে, ডিএমবিএস শুধুমাত্র একজন মহাকুশলী প্রতিরক্ষা বিষয়ক নীতিনির্ধারকই নন কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের একজন ধুরন্ধর মাস্টারমাইন্ডও বটে। সর্বত্রই তার সমর্থক ও গোয়েন্দারা রয়েছে। আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে উৎঘাটন করি যে, মোসাদের দু’জন অত্যন্ত সিনিয়র অফিসার তার কথা মত চলতো। ডিএমবিএস এর পক্ষে কোন কর্মসাধন করা মুহুর্তের ব্যপার মাত্র। লিবিয়ার যুদ্ধবাজ নেতা ইব্রাহিম আল জাধরান সবসময় তার নির্দেশের অপেক্ষায় থাকে এবং নির্দেশ পাওয়া মাত্রই কোন প্রশ্ন ছাড়াই প্রভু ভক্ত প্রশিক্ষিত কুকুরের ন্যায় তা তামিল করে তার পায়ের কাছে হাজির করতে দ্বিধা করে না।

১৯৭০ দশকে আমরা তাকে এবং তার সহকর্মী অস্ত্র ব্যবসায়ী আদনান খাশোগীকে লোভ দেখিয়ে আমাদের বিশেষ একটি প্রকল্পে অন্তর্ভূক্ত করতে ব্যর্থ হই। আমরা তাদের মহামূল্যবান পুরষ্কারের প্রস্তাব দিলেও সরাসরি তারা তা প্রত্যাখ্যান করেন। খাশোগী প্রথমে সম্মত হলেও ডিএমবিএস তাকে প্রভাবিত করে আমাদের থেকে সরিয়ে নেন। প্রকৃতপক্ষে ইসরাইল এবং ইসরাইলের জনগনের জন্য ডিএমবিএস এর কোনোই ভালোবাসাই নেই।

আমার সরকার যে কোন প্রকারে বাস্টার্ড ডিএমবিএস কে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর। ইসরাইল সরকার এজন্য রাশি রাশি ডলার প্রদানে সম্মত এবং আমাকে সে ব্যয় নির্বাহের ম্যান্ডেট দিয়েছে। কাজটি সমাধা হলে আমার কেরিয়ারের ক্ষেত্রে তা হবে একটি বড় ধরনের সফল ঘটনা এবং সফল ভাবে প্রকল্পটি সমাধা হলে ব্যক্তিগত ভাবে আমার সন্তুষ্টির কোন সীমা-পরিসীমা থাকবে না।

আপনার কার্যকালে এই মিশন শেষ করা জরুরী এবং এটি নির্দেশনামূলক মনে করা জরুরী। অন্যথায় শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, জয়, ববিসহ দলের শীর্ষ নেতাদের সরিয়ে দেয়ার দীর্ঘ প্রয়াস অসম্পূর্ণই থেকে যাবে। আপনি স্মরণ করুন ২০০৬ সালের ২৬মার্চ, ২০০৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর এবং ২০১৭ সালের ২৪ আগষ্ট পরিচালিত আপনার অভিযানের কথা। ড. মূসা এবং তার আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসায়ীরা আপনার এই নিধন অভিযান কি ভাবে নস্যাত করেছিলো। এমনকি সরকারের বাহিনীতে আপনার নিজস্ব লোকেরা ইন্দিরা গান্ধি স্টাইলে শেখ হাসানাকে সরিয়ে দেওয়ার যে পরিকল্পনা করেছিলো জারজ মূসা তাও নস্যাত করে দিতে সক্ষম হন।

আমাদের পারস্পরিক লক্ষ্য অর্জনে এবং আমাদের আলোচনার প্রেক্ষিতে গৃহিত সিদ্ধাতের আলোকে আমাদের এব্যাপারে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে। যত দ্রুত আমরা এই মিশন শেষ করতে পারবো আমাদের দুই দেশের স্বার্থ তত সুরক্ষিত হবে এবং পরিস্থিতি তত সুফল বয়ে আনবে।

ইতি আপনারই
ইয়োশি কোহেন

মহিদ আলী, নিজস্ব প্রতিবেদক

ছড়িয়ে দিনঃ