গলাচিপায় ঘরভাড়া বৃদ্ধিতে হয়রানির শিকার ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীরা

রাকিবুল ইসলাম, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর গলাচিপায় ঘরভাড়া বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীরা। এতে দিন দিন ওই ব্যবসায়ীদের মাঝে প্রচন্ড চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পৌরসভায় ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীদের জন্য বহুতল মার্কেট নির্মাণ করা এখন একান্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। কারণ, ব্যবসায়ীদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘর সংকটে পড়েছেন ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করলেও ঘরভাড়া বৃদ্ধির কারণে তাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে।

বছর ঘুরে আসলেই কোন নিয়ম-নীতি না মেনেই ঘর মালিকরা ভাড়াটিয়াদের কাছে অন্যায্য অতিরিক্ত ঘরভাড়া দাবি করে। আর এ দাবি না মানলে ভাড়াটিয়াদেরকে ঘর ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয় ঘর মালিকরা।

এমনই চিত্র দেখা গেছে পৌর শহরের আড়তপট্টি, সদর রোড, কর্মকারপট্টি, কাপুড়িয়াপট্টি, ফার্মিসী মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায়।

অন্য কোথাও ঘরভাড়া না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে বছরের পর বছর ভাড়াটিয়াদের ওই একই ঘরে থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে হয়। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঘর মালিকরা ভাড়াটিয়াদের উপর এক ধরনের নীরব নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন সবার অগোচরে। এ যেন দেখার কেউ নেই।

বাস্তবে এর কোন প্রতিকার নেই বলে মনে করছেন সচেতন মহল। কারণ, এটা ঘর মালিকদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। এখানে সরকার কিংবা জনপ্রতিনিধিদের কোন হাত নেই।

অতিরিক্ত ঘরভাড়ার চাপ সহ্য করতে না পেরে কাপুড়িয়াপট্টির একাধিক ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীরা ঘর ছেড়ে দিয়ে পৌর শহরের বাহিরে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

ভুক্তভোগী ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী জুরান, দীপক দাস, তাপস দত্ত বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাপুড়িয়াপট্টিতে ভাড়া ঘরে থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছিলাম। কিন্তু ঘর মালিকরা অস্বাভাবিক হারে ঘরভাড়া বৃদ্ধি করায় আমরা ঘর ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হই।

সরে জমিন গিয়ে দেখা গেছে, ছোট ছোট প্রতিটি ঘরের ভাড়া প্রতি মাসে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। যা প্রতি মাসে মূলত ভাড়া হয় দেড় থেকে দু’ হাজার টাকা। ছোট শহরে এ ভাড়া এক ধরনের জুলুম বলে অভিযোগ করেন একাধিক ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী।

ভুক্তভোগী ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার যদি পৌর শহরে একাধিক ব্যবসায়ী বান্ধব বহুতল মার্কেট নির্মাণ করে সেখানে তাদেরকে ব্যবসা করার সুযোগ দিতেন তাহলে তারা উপকৃত হতেন।

এব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী বলেন, আমি একজন নামে মাত্র কর্মকার। আমার যন্ত্রপাতি ছাড়া কিছুই নেই। আমি পুরাতন সোনা-রূপার জিনিসের মেরামতের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। কোন মাসে ঘরভাড়া দিতে গিয়ে আমার ওই মাসের সম্পূর্ণ আয়ের টাকা ঘর মালিককে দিতে হয়। এতে সংসার চালাতে আমাকে ঋণগ্রস্ত হতে হয়। তিনি আরও বলেন, ঘরভাড়ার কোন নীতি-মালা না থাকায় আমরা এই হয়রানির শিকার হই।

এ বিষয়ে পৌর মেয়র আহসানুল হক তুহিন বলেন, ইতোমধ্যে পৌরমঞ্চ সংলগ্ন চাউলের টলঘর ভেঙ্গে সেখানে বহুতল মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণ কাজ শেষ হলে নিচতলায় চাউল ব্যবসায়ীদের জন্য ও অন্যান্য তলায় বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের জন্য রুম বরাদ্দ দেয়া হবে।

ছড়িয়ে দিনঃ