উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের ডুবাতে যেসব দলীয় এমপি ও দলীয় নেতা কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: এবার উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের ডুবাতে যেসব দলীয় এমপি ও দলীয় নেতা কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ শুরু করেছে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক টিম। দলীয় নির্দেশনার বাইরে যারা কাজ করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে তাদের তালিকা তৈরি করে তাদের দলীয় পদ-পদবি থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেসব এসপি ও ওসিসহ পুলিশ কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে প্রভাব খাটিয়েছে এবং নৌকা ডুবাতে সহযোগিতা করেছে, তাদের তালিকা করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এসব পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রমতে, তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাদের জন্য গণভবনের দরজা খোলা। তৃণমূলের কোন্দল, রোষানল ও বঞ্চনার কথা প্রধানমন্ত্রীকে বলছেন দলের নেতারা। স্থানীয় এমপিদের রোষানলে পড়ে নৌকা প্রতীকের যেসব প্রার্থী উপজেলা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন, তাদের অনেককে ডেকে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা কথা বলেছেন, শুনেছেন তাদের অভিযোগ। এমনকি অনেকে তার নিকট লিখিত অভিযোগও দায়ের করছেন। প্রধানমন্ত্রীও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং প্রয়োজনে আইনানুগ সহায়তা দিতে সরকারের দায়িত্বশীলদের নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যান টাঙ্গাইলের একটি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি যিনি উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ছিলেন; কিন্তু স্থানীয় এমপির বিরোধিতার মুখে পরাজিত হন। গণভবনে তিনি এ সংক্রান্ত অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা বিভাগের দায়িত্বে থাকা সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কড়া পর্যবেক্ষণে রাখতে নির্দেশ দেন।
এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জেলার কোন্দল, ত্যাগী ও কোণঠাসা নেতাকর্মীদের অভিযোগ শুনছেন। সম্প্রতি ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিবদমান দ্ব›দ্ব মিটিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। গণভবনে ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর নেতাদের ডেকে নিয়ে নিজেদের অন্তঃকোন্দল মিটিয়ে দেন, যে কারণে দলের আর কেউ প্রার্থী হয়নি। ফলে দলের মনোনয়ন পাওয়া ইকরামুল হক টিটু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র নির্বাচিত হন। ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগ মোট ৬ জনের নাম পাঠায়। এ ৬ জনের মধ্যে মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইকরামুল হক টিটুর নামও ছিল।
উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়নের আগেও দলের অনেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নিজের ও পরিবারের ত্যাগের কথা তুলে ধরেন। তাদের অনেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। কুমিল্লার বরুড়ার প্রয়াত এমপি আবদুল হাকিমের সন্তান মাইনুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে পারিবারিক অবস্থা ও বাবার ত্যাগের কথা তুলে ধরেন। উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী করা হয় মাইনুলকে। সেখানে আইনি জটিলতায় নির্বাচন হয়নি। কুমিল্লার হোমনায় দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছেন অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ। সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পাননি। উপজেলা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। পরে উপজেলা নির্বাচনে আবদুল মজিদের স্ত্রী মনোনয়ন পান এবং নির্বাচিত হন।অনেকে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আসেন। শুক্রবার রাতে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মেয়র, জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতারা সৌজন্য সাক্ষাত করেন।
গণভবন সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী ফ্রি থাকলে সারা দেশ থেকে প্রতিদিনই গণভবনে তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আসেন। সাধারণত মাগরেবের পর প্রধানমন্ত্রী আগত তৃণমূল নেতাকর্মীদের সময় দেন। তাদের কোনো অভিযোগ থাকলে তা শুনে সমাধানের চেষ্টা করেন।দলের নেতারা বলছেন, শুধু রাজনৈতিক পদ-পদবি বা কোন্দল নয়; প্রধানমন্ত্রী নিজে এবং বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট দলের দুস্থ ও অসচ্ছল নেতাদেরও খোঁজখবর রাখে এবং তাদের সার্বিক সহযোগিতা করে।দলের বেশ ক’জন নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে তৃণমূল সম্পর্কে খুব ওয়াকিবহাল। তিনি নিয়মিত তৃণমূল আওয়ামী লীগের খোঁজ রাখেন। তৃণমূলের নেতাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দ্বার সবসময় উন্মুক্ত।
ছড়িয়ে দিনঃ