উপজেলায় মনোনয়ন বাণিজ্য করলেই ব্যবস্থা

রাকিবুল ইসলাম

উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্য করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগ মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রত্যেকটা স্থানীয় কমিটিকে নির্বাচনের জন্য চেয়ারম্যান পদে তিনজনের নাম প্রস্তাব করতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় কমিটি খুব শিগগিরই এই তিন ব্যাক্তির নাম আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন কমিটির কাছে পাঠাবে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র গুলো বলছে, পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার একটি বিশেষ টিম সারাদেশে উপজেলাগুলোতে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে প্রার্থীদের তালিকা তৈরী এবং মাঠ জরিপ করছে। মাঠ জরিপের ভিত্তিতে তারাও তিনটি করে তালিকা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করবে। এখন স্থানীয় কমিটি যে তিনজন ব্যাক্তির নাম পাঠাবে ও আওয়ামী লীগের মাঠ জরিপে যে তিনজনের নাম উঠে আসবে, যদি তাতে গড়মিল থাকে। তাহলে এটা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একটা টিম তৃতীয়পক্ষ হিসেবে যাচাই বাছাই ও তদন্ত করবে। তদন্ত করার পর যদি দেখা যায় স্থানীয় কমিটি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ কোন পক্ষপাতিত্বমূলকভাবে বা মনোনয়ন বাণিজ্য করে কিংবা অন্য কোন বিশেষ উদ্যেশ্যে এমন তিনজনের নাম দিয়েছে যে তিনজন জনপ্রিয় নন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, উপজেলা নির্বাচনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে তা চুড়ান্ত করা হয়েছে। এ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:

১. উপজেলা নির্বাচনে যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশি, তাকে অন্তত বারো বছর আওয়ামী লীগ করতে হবে।

২. যিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী তার কোন নিকটাত্নীয় বা স্ত্রী জাতীয় সংসদের সদস্য হতে পারবে না।

৩. তার বিরুদ্ধে কোন দুর্নীতি, ঋণ খেলাপি বা সন্ত্রাস কিংবা জঙ্গিবাদের মামলা থাকা চলবে না।

৪.তিনি অতীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন বা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন। এরকম কোন ব্যাক্তি মনোনয়ন পাবেন না।

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে যে, ভাইস চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ উদারনীতি গ্রহণ করবে। সেখানে কোন দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। এটা উন্মুক্ত থাকবে। যে নির্বাচন করতে চাইবে স্বতন্ত্রভাবে নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবে। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ এমন প্রার্থী বাছাই করতে চায়; যে প্রার্থী ত্যাগী, পরীক্ষীত এবং দলের জন্য কাজ করেছেন এবং যিনি নির্বাচনে জয়ী হবেন। আওয়ামী লীগ মনে করছে, উপজেলা নির্বাচনে প্রচুর স্বতন্ত্রপ্রার্থী দাঁড়াবে। তাই এক্ষেত্রে শুধুমাত্র নৌকা মার্কা দিলেই জয় হবে এমন ধারনার কোন কারণ নেই। বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ নাও করে তবুও নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। তাই আওয়ামী লীগ প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছে। আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেছেন যে, স্থানীয় নির্বাচনে যেটা সবচেয়ে বড় আতঙ্ক, সেটা হলো মনোনয়ন বাণিজ্য। তিনি বলেন, আমরা জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করেছি। যেটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় উদ্যোগের কারণে। এছাড়াও বিজ্ঞানসম্মত গবেষণা এবং মাঠ জরিপের মাধ্যমে। একই বিষয়টি করা হচ্ছে উপজলা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও। এখানে যেন তৃনমূল থেকে কোন মনোনয়ন বাণিজ্য না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। ওই নেতা আরও বলেন যে, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং উপজেলা নির্বাচনে বহু মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এবার যেন সেই অভিযোগ না উঠে সে ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সতর্ক।

ছড়িয়ে দিনঃ