আদালতে প্রমান ছাড়া “বাবা ধর্ষক” এই ধরনের শিরোনাম কতটা যৌক্তিক!

রাকিবুল ইসলাম

বাংলাদেশে পারিবারিক ধর্ষণের খবর প্রকাশ বেড়ে গেছে গেলো কয়েক মাসে। গত ছয় মাসে এইধরনের সংবাদ রেকর্ড ছাড়িয়েছে পুরো দেশে।বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ” বাবা ধর্ষক “এইধরনের সংবাদে সমাজে যেমন আতংক ছড়াচ্ছে, তেমনি শ্রদ্ধার আসনে থাকা প্রতিটা বাবা নিজেরাও লজ্জিত হচ্ছেন এইধরনের সংবাদ দেখে। অনুসন্ধান বলছে,সবচেয়ে বেশী এর প্রভাব পড়ছে শিশু কিশোরদের উপর।

শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইধরনের সংবাদ শিশুর মাঝে অস্থিরতা তৈরি যেমন করছে তেমনি পারিবারিক সুখ-শান্তি নস্ট হচ্ছে।বাবা এবং সন্তানের মাঝে দুরত্ব তৈরি করছে এমন সংবাদ বলে জানিয়েছেন একাধিক অভিভাবক।

এই ব্যাপারে বাংলাদেশ ও দক্ষিন এশিয়ার শিশু গণমাধ্যম প্রধান আরিফ রহমান শিবলীর সাথে অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রথমে পাওয়া সম্ভব হয়নি।অনেক চেস্টার পর এই প্রতিবেদকের করা প্রশ্নে আরিফ রহমান বলেন,নিউজগুলো আমি নিজেও দেখেছি। আর নিজেকে প্রশ্ন করেছি আদালতের প্রমাণ ছাড়া ” বাবা” নামক ছাদ কিংবা বটগাছ নামক মানুষগুলোর আগে পড়ে ধর্ষক শব্দ ব্যবহার করে সমাজকে বিপদে ঠেলে দেওয়া এখনকার সহজ সাংবাদিকতা দেখে। তিনি এইসময় কিছুটা চুপ থেকে এই প্রতিবেদককে আরও বলেন,আপনি বলুন সংবাদ গুলো প্রকাশিত হওয়ার পর সেই সাংবাদিক পরিবারগুলো তে কি তার প্রভাব পড়ে না?আমার দেখা অনেক সাংবাদিকদের কন্যা সন্তান রয়েছে, তাদের এই বাচ্চাগুলো কি সংবাদে “বাবা ধর্ষক “পড়ার পর নিজেদের পরম নির্ভরযোগ্য (বাবা) মানুষটিকে নিরাপদ মনে করে?

প্রতিটা জিনিসের ভালোমন্দ একটি সমাজের উপর প্রভাব বিস্তার করে। আমি নিজেও দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অসংখ্য ট্রেনিং নিয়েছি এবং শিখছি প্রতিনিয়ত।

ঢাকা আমেরিকান দুতাবাসের সহায়তায় এক ট্রেনিং সেসনে রয়টার্সের এক সাংবাদিক বলেছিলেন, প্রতিটা সংবাদ করার আগে সেটা সমাজের উপর কতটা প্রভাব পড়তে পারে তা নিয়ে ভাবতে হবে একাধিক বার।বিশেষ করে শিশুদের উপর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে এমন সংবাদ গুলোকে নিয়ে গবেষণা করে একাধিক বার এডিট করে তারপর প্রকাশ করা উচিৎ বলে হাতে কলমে শিখিয়েছেন আমাদের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের এক্সপার্টগন।

এইটা কি আমাদের দেশীয় সংবাদ মাধ্যম গুলো মানছে?একটি সন্তানের নির্ভর যোগ্য মানুষ “বাবা” সত্যিকারের ধর্ষক কিনা, তা আদালত প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত সংবাদে তুলে আনাটা ঠিক না আমার মতে। আর যদি প্রমান হয় আদালতে এমন ঘটনা (বাবা) নামক শ্রদ্ধার মানুষটি ঘটিয়েছেন, আমি এইটাই বলবো গুছিয়ে তা অন্যভাবে তুলে আনা উচিৎ। এমন ভাবে ই এইধরনের সংবাদ প্রকাশ কিংবা প্রচার দরকার যেটা শিশুর মনে অস্থিরতার প্রভাব না ফেলে।

লক্ষ লক্ষ বছর ধরে প্রতিটা বাবা কি নিজ কন্যাদের
ধর্ষন করে বড় করেছে? আপনার কাছে আমি মনে করি আমার ই নয় সারা দেশের মানুষের ই প্রশ্ম আজ এটি। বাবারা আগলে রাখেন পরিবার কে নিজ সন্তানকে। তাই দুই একজন মানসিক বিকারগস্ত মানুষের ভুল কাজ কে মিডিয়ায় বড় আকারে তুলে ধরা লক্ষ লক্ষ বাবাকে যেমন অপমানিত করে। তেমনি আমি মনে করি সন্তানের সাথে বাবাদের দূরত্ব তৈরি করতে ভুমিকা পালন করে।

সস্তা লাইক,কমেন্টস এর আশায় নতুন গজানো অনেক ভুইফুই মিডিয়া তো ইউটিউব ফলো করে এমন অনেক পারিবারিক কাল্পনিক সংবাদ তৈরি করে দেশে অস্থিরতা তৈরি করছে। এই ব্যাপারে তথ্যমন্ত্রী,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সহ আইনশৃংখলা বাহিনীকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানান দক্ষিন এশিয়ার আলোচিত এই ক্ষুদে গণমাধ্যম এক্সপার্ট।

পাশাপাশি বাংলাদেশের সকল সাংবাদিকদের “বাবা ধর্ষক ” এই ধরনের সংবাদ গুলো প্রকাশের ক্ষেত্রে শিশুর মনে যেন অস্থিরতা না তৈরি না করে, সেভাবে তুলে আনতে আহবান জানান কিডস মিডিয়ার সি,ই,ও।

ছড়িয়ে দিনঃ