আগ্রাসন: বাংলাদেশে হিন্দি ভাষার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল: শ্রিংলা

অন্য ভাষার উপর দক্ষতা থাকা দোষের কিছু নয় কিন্তু নিজেদের ভাষাকে অবজ্ঞা করে অন্য ভাষা বলার আধিক্য দেখা গেলে কবি আব্দুল হাকিমের সেই কবিতার কথা মনে পড়ে।
যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী।
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি॥
সর্বক্ষেত্রে ভারতের এমন আগ্রাসন এবং তা মেনে নেয়ার যে সংস্কৃতি চালু হয়েছে তা প্রমাণ করে আমরা দিন দিন কতটা আত্মমর্যাদাহীন একটি জাতি এবং রাষ্ট্রে পরিণত হয়ে যাচ্ছি। বাঙলাভাষাকে বাদ দিয়ে যেভাবে ইংরেজি ভাষার কদর করা হচ্ছে তা রীতিমত আতঙ্কজনক। ১৯৫২ সালের পরের কয়েকবছরের কথা বাদ দিলেও স্বাধীন দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে যেভাবে বাঙলা ভাষাকে অবজ্ঞা করা হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতেই আজকের এই পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের নিন্ম আদালতে বাঙলা ভাষা প্রচলিত হলেও উচ্চ আদালতে আজ অব্ধি ইংরেজি ভাষার প্রচলন জারী রাখা হয়েছে। ইংরেজি ভাষা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিধায় ভাবখানা এমন যে ইংরেজি ভাষা না বললে প্রতিপত্তি ক্ষুণ্ণ হয়। ঐতিহাসিকভাবে বাঙলাভাষা অনেক ভাষা থেকে আগত শব্দের সংমিশ্রণে অলঙ্কৃত হলেও আজকাল তরুণপ্রজন্মের নিজের ভাষার কথাবার্তার মধ্যে যেভাবে বাঙলা এবং ইংরেজি শব্দের সংমিশ্রণ করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে তাতে বাঙলাভাষা জগাখিচুড়ীতে পরিণত হচ্ছে। অপরদিকে রাজনীতি সহ বাংলাদেশের প্রত্যকেটি অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে যেভাবে বিদেশী হস্তক্ষেপ চালু হয়েছে বিশেষ করে সাম্রাজ্যবাদী ভারত এবং আমেরিকা যেভাবে নগ্ন থাবা বিস্তার করছে এবং ক্ষমতায় থাকা প্রত্যেকটি শাসকশ্রেণীর সরকার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করা এবং ক্ষমতা লাভের আশায় যেভাবে এই বিদেশীদের প্রভুত্ব মেনে নিচ্ছে তা রীতিমত এক ভয়াবহ ব্যাপার এবং এটা বলাই বাহুল্য যে তাতে এদেশের স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব কতটা জনগণের দখলে আছে তা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। ভারত- বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসফ কর্তৃক যেভাবে লাগাতার বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক যেভাবে তা চুপচাপ হজম করা হচ্ছে তাতে অল্পবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের পক্ষেও এটি বুঝার অবকাশ থাকার কথা নয় যে কিভাবে দেশ আজ সাম্রাজ্যবাদী ভারতের নির্দেশ অনুযায়ী চালিত হচ্ছে। ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি হাসিনা- মনমোহন চুক্তির ধারাবাহিকতায় সাম্রাজ্যবাদী ভারতের সাথে একের পর এক জনবিরোধী, দেশবিরোধী চুক্তি করা হয়েছে। কাজেই যখন দেখা যায় সীমান্ত হত্যার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে একটা বিবৃতি পর্যন্ত দেয়ার দায়টুকুও এড়িয়ে যাওয়া হয় তখন বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, এদিক দিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ এক অকেজো মন্ত্রণালয়ে পরিণত হয়েছে। ফলে দেশ আজ এক চরম সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে এসে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং জনগণের সন্তান হিসেবে, সমাজের একজন অগ্রসর মানুষ হিসেবে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব হিসেবে আমাদের ঘাড়ে এসে পড়েছে। সমাজের অগ্রসর মানুষ হিসেবে সমাজের প্রগতিশীল অংশ হিসেবে ছাত্রসমাজই সবসময় সকল প্রকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে শ্রমিকের সাথে একাত্ম হয়ে জনগণকে সঠিক পথ দেখিয়েছে। কিন্তু আজকাল রাজনীতিক্ষেত্রে, সামরিকক্ষেত্রে , শিক্ষাক্ষেত্রে ও সংস্কৃতিসহ বাংলাদেশের এমন কোন ক্ষেত্র বাকি নেই যেখানে ভারত হস্তক্ষেপ করছে না। তারই প্রমাণ আমরা বিভিন্ন সময় পাচ্ছি। আজ শ্রিংলা তার কথার মধ্যে দিয়ে কি আভাষ দিচ্ছে তা যদি এই অগ্রসর অংশ বুঝতে না পারি এবং এই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণকে সঠিক দিশা দেখাতে না পারি তাহলে এর থেকে কলঙ্কের বিষয় আর কিছু হবেনা।

দীপা মল্লিক

লেখিকার ফেসবুক থেকে নেয়া ।