অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর্তন চাইনা জাতীয়করণ চাই

তানভীর আহম্মেদ,প্রভাষক পদার্থবিজ্ঞান,আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়,রাণীনগর,নওগাঁ ।
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড ।আর এই মেরুদণ্ড কেমন হবে তা নির্ভর করে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উপর।শিক্ষা ছাড়া যেমন কোনো জাতি উন্নতি লাভ করেনা।আবার সঠিক শিক্ষাব্যবস্থা না থাকলে কোনো জাতি সঠিক পথের সন্ধানও পায়না ।
আজ চারিদিকে একটি কথারই প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে,কোনো কোনো শিক্ষাবিদ বলছেন দেশের বর্তমান প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা কোনোভাবেই আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবেনা ।আবার অনেকে বলছেন বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করা উচিত ।
তাই যত দ্রুত সম্ভব বর্তমান প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাকে কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থায় রুপান্তরিত করতে হবে ।যখন শিক্ষাব্যবস্থা হবে কর্মমুখী তখন দেশে বেকারত্বের হার কমে যাবে।শিক্ষিত যুব সমাজের মধ্যে হতাশাগ্রস্থতা থাকবেনা । যার ফলে অপরাধ প্রবনতা ও নেশাগ্রস্ততা দূর হবে সমাজ থেকে।
আবার শিক্ষা যেমন জাতির মেরুদণ্ড,তেমনই শিক্ষাব্যবস্থার মেরুদণ্ড হলো শিক্ষক সমাজ।যদি এই শিক্ষক সমাজের মেরুদণ্ড শক্ত হয় তাহলে শিক্ষাব্যবস্থার মেরুদণ্ডও শক্ত হবে।আর এটি যদি দূর্বল হয় তাহলে সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থা দূর্বল হবে ।
আর এই শিক্ষক সমাজের মেরুদণ্ড শক্ত করতে গেলে সর্বপ্রথম শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্য দূর করতে হবে।এখানে থাকা যাবেনা কোনো ভেদাভেদ ।কেউ সরকারি আবার কেউ- বা বেসরকারি ।এরকম ভেদাভেদ দূর করতে হবে ।সকল শিক্ষককে একই প্লাটফর্মে নিয়ে আসতে হবে।সকলের নিয়োগ পদ্ধতি হবে একই ।যেনো দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীগণ এই পেশায় আসে তার সু-ব্যবস্থা করতে হবে ।দেশের বর্তমান প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার ৯৫ শতাংশ বেসরকারি ।
যেখানে কর্মরত শিক্ষকগণের সংখ্যা ৫ লাখের অধিক ।যাদের বেতন ভাতা সরকার বহন করে।
এইসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন ভাতা পেয়ে থাকেন।
তবে বেতন জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী হলেও এইসকল প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীগণ সকল সুবিধা পে-স্কেল অন্তর্ভুক্ত অন্য সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায় পাননা ।
যেমন,সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসা ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতা মূল স্কেলের সাথে সম্পর্কযুক্ত ।কিন্তু বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাসা ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা মূল স্কেলের সাথে সম্পর্কিত নয়।এখানে তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাতা প্রদান করা হয়।যা সরকারি কর্মকর্তা -কর্মচারীদের তুলনায় খুব নগন্য ।আবার উৎসব ভাতাও প্রদান করা হয় ২৫-৫০ শতাংশ ।যেখানে সরকারি চাকুরিজীবীরা ১০০ শতাংশ পেয়ে থাকেন।
আবার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মকর্তাগণ তাদের মূল বেতন থেকে ৬ শতাংশ কর্তন করে তাদের বেতন উত্তোলন করতে পারেন।এখন সেই কর্তন বেড়ে ১০ শতাংশ করার জন্য পরিপত্র প্রকাশ করেছে মাউশি ।যার ফলে  এখন থেকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকলে মূল বেতন থেকে ১০ শতাংশ বেতন কম পাবেন।
তার ফলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সকলে বেতন উত্তোলন করতে পারবে মূল স্কেলের ৯০ শতাংশ ।যা বর্তমান অর্থ ব্যবস্থাপনার সাথে সাংঘর্ষিক ।যেখানে পে-স্কেল ভুক্ত সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের সুযোগ বাড়ছে ।অপরদিকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীদের সুযোগ সুবিধা কমছে ।
অপরদিকে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর্তনে শিক্ষক কর্মচারীদের অবসরকালীন সুবিধার কোনো পরিবর্তনও হচ্ছেনা।আগে যে নিয়মে অবসরকালীন সুবিধা পেয়ে থাকতো শিক্ষক কর্মচারীগণ, কর্তনের পরেও একই নিয়মে অবসরকালীন সুবিধা দেয়া হবে।যার ফলে কর্তনের যে সুবিধা পাওয়ার কথা তা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষক কর্মচারীগণ ।
এই সকল বিষয় বিবেচনা করে যত দ্রুত সম্ভব অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর্তনের পরিপত্র বাতিল চায় দেশের সকল বেসরকারি স্কুল কলেজের শিক্ষক কর্মচারীগণ ।
আবার দেশের শিক্ষাব্যবস্থা তখনই সুশৃঙ্খল হবে যখন দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে কোনো স্তর থাকবেনা ।সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থায় একটি মাত্র স্তর থাকবে ।আর তা তখনই হবে ,যখন সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থাকে জাতীয়করণ করা হবে।
এই পরিস্থিতিতে দেশের সকল বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের দাবি ৪ শতাংশ কর্তনের পরিপত্র বাতিল করা হোক ও সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থাকে জাতীয়করণ করা হোক।

ছড়িয়ে দিনঃ